অবশেষে আদালতের পথে আমির হামজা, আজ আত্মসমর্পণ করবেন

মানহানির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় রোববার (১৪ জুন) সিরাজগঞ্জের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করার কথা রয়েছে তার। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আদালতে অনুপস্থিত থাকার পর অবশেষে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন মুফতি আমির হামজা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রোববার জোহরের নামাজের পর তিনি সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন এবং আদালতের কাছে জামিন প্রার্থনা করবেন। তার আইনজীবী ও দলীয় নেতারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ শরিফুর হায়দার রফিক সরকার জানিয়েছেন, দুপুর ২টার দিকে আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে আমির হামজার। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি আত্মসমর্পণ করলে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু হবে।
অন্যদিকে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেছেন, আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়েই মুফতি আমির হামজা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আত্মসমর্পণের পর তিনি জামিনের আবেদন করবেন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করবেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগ এনে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি গ্রহণ করে একই দিন আদালত তাকে সমন জারি করেন এবং ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপরও তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া আরও কঠোর হয়। গত ১৭ মে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন, যা সাধারণত কোনো আসামি দীর্ঘ সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকলে অনুসরণ করা হয়।
এদিকে আমির হামজার আদালতে আত্মসমর্পণের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সবার নজর আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে। আত্মসমর্পণের পর তিনি জামিন পান কি না এবং মামলার পরবর্তী শুনানিতে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই হবে এই আলোচিত মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।



