শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার ও মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর-বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে বক্তব্য শিক্ষামন্ত্রীর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষাব্যবস্থা, কারিকুলাম সংস্কার এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি তার বক্তব্যে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা-গুরুত্বের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে ১০৪ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
বুধবার (১৭ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তার শাসনামলে শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিষয়ে আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের দুর্বলতা রাখা যাবে না। একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তার মতে, দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব, আর এ ক্ষেত্রে শিক্ষকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
শিক্ষামন্ত্রী কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শুধু উচ্চশিক্ষার ওপর নির্ভর করলে হবে না, পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। এতে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি অর্থবহ ও অনুপ্রেরণামূলক পুরস্কার, যা শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের আরও এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের মোট ১০৪ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে কলা অনুষদের ২১ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ১৬ জন, বিজ্ঞান অনুষদের ১৫ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৭ জন, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ২৯ জন, আইন অনুষদের ৩ জন এবং চারুকলা অনুষদের ৩ জন শিক্ষার্থী এই সম্মাননা অর্জন করেন।



