ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে, জামিন আবেদন নামঞ্জুর

ঢাকার একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্ত্রী আফরা ইভনাত ইকরা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে শোবিজ অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। এরপর আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করা হলে আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন দুপুর দেড়টার দিকে জাহের আলভী আদালতে উপস্থিত হন। শুনানি শুরু হলে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়ান। শুনানিতে তার পক্ষে ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূইয়াসহ একাধিক আইনজীবী অংশ নেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান।
জামিন আবেদনে বলা হয়, এই ঘটনার সঙ্গে জাহের আলভীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রেমের বিয়ের জেরে বাদীপক্ষ ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে হয়রানিমূলকভাবে মামলা দায়ের করেছে বলেও দাবি করা হয়। এছাড়া মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই বলে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার সময় তিনি নাটক নির্মাণের কাজে নেপালে অবস্থান করছিলেন বলেও জামিন আবেদনে জানানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আফরা ইভনাত ইকরা নামের এক নারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর ওই রাতেই ইকরার বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের কারণে তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
উল্লেখ্য, জাহের আলভী ও ইকরা ২০১০ সালে বিয়ে করেন এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে। এর আগে একই মামলায় গত ৪ জুন অভিনেতার মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।



