ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য, সড়কে বাড়ছে যানবাহনের চাপ

পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। অফিস-আদালত খুলে যাওয়ায় সড়কে বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যা, বাসস্ট্যান্ডগুলোতে দেখা যাচ্ছে অফিসগামী মানুষের উপস্থিতি। তবে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি নগরজীবন। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আরও কয়েকদিনের মধ্যে রাজধানী ফিরে পাবে তার চিরচেনা ব্যস্ত রূপ।
ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন রাজধানী ঢাকা ছিল তুলনামূলক ফাঁকা। লাখো মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় সড়ক, বিপণিবিতান এবং বিভিন্ন কর্মস্থলে ছিল স্বস্তিদায়ক নীরবতা। তবে ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষের ফেরার মধ্য দিয়ে রাজধানীতে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে।
সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর ফার্মগেট, মহাখালী, বাড্ডাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদের সময়কার নির্জনতা অনেকটাই কেটে গেছে। প্রধান সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও গণপরিবহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অফিসগামী যাত্রীদের উপস্থিতিও চোখে পড়েছে। যদিও স্বাভাবিক কর্মদিবসের তুলনায় যাত্রী ও পথচারীর সংখ্যা এখনো কিছুটা কম রয়েছে।
পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ অফিস খোলার কারণে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে অধিকাংশ গণপরিবহন এখনো পূর্ণ যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারছে না। অনেকেই এখনও ঈদের ছুটি কাটিয়ে রাজধানীতে ফেরেননি। ফলে সড়কে গাড়ির সংখ্যা বাড়লেও যাত্রীর সংখ্যা সেই তুলনায় কম।
মহাখালী ও বাড্ডা এলাকায় দায়িত্ব পালনরত পরিবহনকর্মীরা জানান, সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিস্থিতি আরও বদলে যাবে। কারণ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এখনও মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা রাজধানীতে ফিরে এলে নগরজীবন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
ফার্মগেট এলাকার কয়েকজন পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় সোমবার সড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেশি দেখা গেছে। তবে স্কুল-কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু না হওয়ায় রাজধানীর চেনা যানজট ও ব্যস্ততা এখনো দেখা যায়নি।
অফিসে যোগ দিতে আসা চাকরিজীবীদের অনেকেই জানান, ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরলেও রাজধানী এখনও কিছুটা ফাঁকা মনে হচ্ছে। অনেক সহকর্মী অতিরিক্ত ছুটি নিয়েছেন বা এখনও গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরেননি। ফলে অফিস ও কর্মস্থলগুলোতেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উপস্থিতি কম।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মে সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। ঈদ উপলক্ষে ২৬ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ছিল। এছাড়া ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ২৫ মে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা টানা সাত দিনের ছুটি উপভোগ করেন। এর ফলে রাজধানী ঢাকা কয়েকদিনের জন্য অনেকটাই জনশূন্য হয়ে পড়ে।
তবে ছুটি শেষে মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় রাজধানীর সড়কগুলোতে আবারও বাড়ছে যানবাহনের চাপ। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঢাকা পুরোপুরি তার পরিচিত কর্মব্যস্ত ছন্দে ফিরে আসবে।



