ঈদের দ্বিতীয় দিনেও চলছে কোরবানি, চাপ কমাতে অনেকে বেছে নিচ্ছেন পরের দিন!

পবিত্র ঈদুল আজহার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবারও দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক মানুষ ঈদের দিন কোরবানি সম্পন্ন করতে না পারায় বা কসাই সংকটসহ নানা কারণে দ্বিতীয় দিনেও পশু কোরবানি করছেন। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোরবানি আদায় করা বৈধ হওয়ায় অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্যে পরের দিনকে বেছে নিচ্ছেন।
ঈদের দিন সকাল ৭টায় ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির কার্যক্রম শুরু হয়। তবে প্রথম দিনের অতিরিক্ত চাপ, কসাইয়ের ব্যস্ততা এবং ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে অনেক পরিবারই কোরবানি পরের দিনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, কেউ পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে ঈদের দ্বিতীয় দিনে কোরবানি করছেন, আবার কেউ কসাই না পাওয়ার কারণে একদিন দেরিতে পশু জবাই করছেন। এতে শহর ও গ্রাম—উভয় জায়গাতেই দ্বিতীয় দিনের কোরবানির দৃশ্য স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম দিনে প্রচণ্ড চাপ থাকায় কসাই সংকট, সময়ের অভাব এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ঘাটতির মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এসব কারণে অনেকেই দ্বিতীয় দিনে অপেক্ষাকৃত স্বস্তিতে কোরবানি সম্পন্ন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
মগবাজার এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন জানান, তাদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরেই ঈদের দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। পারিবারিক রীতি অনুযায়ী এবারও তারা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।
অন্যদিকে, কসাই মতিন মিয়া বলেন, ঈদের দিন তিনি একাধিক গরু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজ করেছেন। ব্যস্ততা কমেনি দ্বিতীয় দিনেও, একইভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, কোরবানির সময়সীমা তিন দিন—জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ পর্যন্ত। তাই ঈদের দিন কোরবানি করা বাধ্যতামূলক নয়; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করা সম্পূর্ণ বৈধ।
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও কোরবানির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে দেখা যাচ্ছে, যা ধর্মীয় বিধান ও বাস্তব পরিস্থিতির সমন্বয়েই গড়ে উঠেছে।



