ঐতিহ্যবাহী তিন গণমাধ্যম চালুর জোর তাগিদ মির্জা ফখরুলের!

দেশের ঐতিহ্যবাহী তিনটি গণমাধ্যম—‘দৈনিক বাংলা’, ‘বাংলাদেশ টাইমস’ এবং সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’—পুনরায় চালুর মাধ্যমে সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গণমাধ্যমের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসব গণমাধ্যম পুনর্গঠন করা গেলে সাংবাদিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের গণমাধ্যম জগতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।
সভায় তিনি বলেন, দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ‘দৈনিক বাংলা’, ‘বাংলাদেশ টাইমস’ এবং ‘বিচিত্রা’ শুধু পত্রিকা নয়, এগুলো একটি ঐতিহ্যের অংশ। এগুলো পুনরায় চালু করা গেলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে সাংবাদিকতার একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে প্রযুক্তি ও সমাজ বদলালেও সাংবাদিকদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে এসব বন্ধ গণমাধ্যম পুনরায় চালু করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজে’র মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণতন্ত্র ও আওয়ামী লীগের অবস্থান একসঙ্গে যায় না—এমন অভিযোগ তিনি পুনরায় তুলে ধরেন। তিনি ১৯৭৫ সালের বাকশাল এবং সাম্প্রতিক সময়ের শাসনব্যবস্থার সমালোচনাও করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসভিত্তিক কোনো গবেষণা বা বই প্রকাশিত হয়নি, যা হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে সাংবাদিক ও গবেষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে কিছু কর্পোরেট মিডিয়া হাউসের মালিকদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং এমন পরিস্থিতির নিন্দা প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বিএনপিকে একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাদের দল সবসময় ভিন্নমতকে সহ্য করে এবং সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পক্ষপাতী।
সবশেষে তিনি ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন সংবাদপত্র বন্ধের ঘটনাকে ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি আর না ফিরে আসে—এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের সম্মিলিত অঙ্গীকার।



