ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ১১ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে মৌসুমি আবহাওয়া। রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের ১১টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় তাপমাত্রাও কিছুটা কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় সৃষ্ট আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে মেঘের ঘনত্ব বাড়ছে। এর ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে হঠাৎ করেই বজ্রসহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও নদীবন্দরসংলগ্ন এলাকাগুলোতে নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে, যা স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা ও স্বাভাবিক জনজীবনে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ের ভ্যাপসা গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পৃথক পূর্বাভাসে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার আবহাওয়া নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ অঞ্চলের আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তাই নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, জেলে এবং সাধারণ মানুষকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



