দারিদ্র্য জয় করে ১০০ মিটারে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় রিফাত, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

অভাব, অনটন আর পারিবারিক ভাঙনের কঠিন বাস্তবতার মাঝেও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়া নীলফামারীর কিশোর রিফাত ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে ১০০ মিটার দৌড়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নজর কাড়েছে। তার এই সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা গল্পটি প্রশাসনের নজরে এলে পাশে দাঁড়ান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান।
রিফাত ইসলামের জীবন শুরু থেকেই ছিল সংগ্রামের। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের লালজুম্মাপাড়া গ্রামের এই কিশোর মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারায়। এরপর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা হয়ে যান। ফলে ছোটবেলা থেকেই দাদীর আশ্রয়েই বড় হচ্ছে রিফাত। দাদীর সীমিত আয়েই চলে তার পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবন।
এই প্রতিকূল পরিবেশের মাঝেও রিফাত কখনো স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেনি। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় বিশেষ করে দৌড় প্রতিযোগিতায় তার অসাধারণ প্রতিভা ধীরে ধীরে সামনে আসে। তার সেই প্রতিভার স্বীকৃতি মেলে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রিফাত প্রথমে উপজেলা, এরপর জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। সেখানে দেশের সেরা প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সে ১০০ মিটার দৌড়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। পরে পুরস্কার গ্রহণ করে শিক্ষা উপদেষ্টার কাছ থেকে।
রিফাত বর্তমানে উত্তর কালিকাপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার এই সাফল্য শুধু বিদ্যালয় নয়, পুরো এলাকায় আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি করেছে।
তার জীবনসংগ্রাম ও অর্জনের খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান তার বাড়িতে যান। এ সময় তিনি রিফাতের খোঁজখবর নেন এবং তার জীবনযাত্রা ও পরিবারের দুরবস্থা দেখে তাৎক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা করেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রিফাতের পরিবারকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন, নগদ ৬ হাজার টাকা, শুকনো খাবার ও একটি কম্বল প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমান, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউল গনি ওসমানীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
ইউএনও আরিফুর রহমান বলেন, রিফাতের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সংগ্রামের গল্প সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তার পড়াশোনা ও খেলাধুলার উন্নয়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সহায়তা পেয়ে রিফাত জানায়, সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় এবং ভবিষ্যতে দেশের নাম উজ্জ্বল করার মতো একজন দৌড়বিদ হতে চায়।
তার প্রধান শিক্ষক ওবায়দুর রহমান বলেন, রিফাত অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। সঠিক সহযোগিতা পেলে সে ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় অর্জন বয়ে আনতে পারবে।
অভাবের বেড়াজাল ছিন্ন করে এগিয়ে চলা রিফাত আজ শুধু একজন ক্রীড়াবিদ নয়, বরং হাজারো সংগ্রামী শিশুর জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।



