নারায়ণগঞ্জের মানবতাবিরোধী মামলায় নতুন ধাপ, শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব। এই মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ মোট ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হবে। আসামিরা সবাই বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই চলছে বিচার কার্যক্রম।
বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন। এরপরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ, যা মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে ১৩ মে ট্রাইব্যুনাল-১ তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই ১২ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে ওই দিনই সূচনা বক্তব্য এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, মামলায় মোট তিনটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রথম ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল এবং ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ মোট ছয়জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় ঘটনায় ২১ জুলাই ফতুল্লার ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়। তৃতীয় ঘটনায় ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলায় শুধু শামীম ওসমানই নন, তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, ডিবিসি টিভির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ও কামরুল হাসান মুন্না, পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর নামও রয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, আজকের সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব মামলার অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালত পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলাটি এগিয়ে নেবে।



