পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম রহমতুল্লাহ আর নেই

ঢাকার পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম রহমতুল্লাহ (৭৬) মারা গেছেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার (৩ জুন) ভোরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্কয়ার হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। হাসপাতালের কাস্টমার সার্ভিস বিভাগও তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পরিবারের সদস্যরা সকালে হাসপাতাল থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে তা রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদের নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
পরিবার জানিয়েছে, বুধবার বিকেল ৪টায় বেরাইদ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর তাকে বেরাইদ কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ কে এম রহমতুল্লাহ ছিলেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী একজন অভিজ্ঞ নেতা। তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং আমৃত্যু আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও সম্মানিত ছিলেন।
তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। তিনি মোট পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সময়ে তিনি ঢাকা মহানগর ও জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রতিনিধিত্ব করেন।
১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সম্মিলিত বিরোধী দলের হয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে আবারও এমপি হন।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১০ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি।
সবশেষ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও ঢাকা-১১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা অব্যাহত রাখেন।
তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার অবদান স্মরণ করা হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে।



