পবিত্র আশুরা পালিত হবে ২৬ জুন, ঘোষণা দিল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি

দেশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সেই অনুযায়ী বুধবার (১৭ জুন) থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে এবং আগামী ২৬ জুন (শুক্রবার) পবিত্র আশুরা পালিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। সভায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা করে মহররম মাস শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
সভা শেষে জানানো হয়, চাঁদ দেখা যাওয়ায় ১৭ জুন থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে এবং আরবি ১০ মহররম তথা পবিত্র আশুরা আগামী ২৬ জুন শুক্রবার পালন করা হবে।
আশুরা শব্দটি আরবি ‘আশারা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ দশ। ইসলামী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী মহররম মাসের ১০ তারিখকে পবিত্র আশুরা বলা হয়। মুসলিম বিশ্বের কাছে দিনটি শোক, স্মরণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে।
ইতিহাস অনুযায়ী, আশুরার দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে ইসলামী বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই দিনটি বিশেষ মর্যাদা পায়।
হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা রাখতে দেখে এর কারণ জানতে চান। তারা জানান, এই দিনে আল্লাহ হজরত মুসা (আ.)-কে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্ত করেছিলেন, তাই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তারা রোজা রাখে। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও এই দিনে রোজা রাখেন এবং মুসলমানদের তা পালনের নির্দেশ দেন (বুখারি: ৩৩৯৭; মুসলিম: ১১৩৯)।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, আশুরার রোজা রাখার ক্ষেত্রে ১০ মহররমের পাশাপাশি ৯ বা ১১ মহররমের আরেকটি রোজা রাখার সুপারিশ করা হয়।
ধর্মীয় গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিবেচনায় পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।



