পরিবেশের ভারসাম্য ও গাছের অস্তিত্ব

আহনাফ হাসান:
গাছ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের জীবন গাছ ছাড়া কল্পনা করা করা সম্ভব নয়। কেবল মানুষ নয়, বরং সব জীবের জন্যই গাছ একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। নৌকা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, কাগজ ও আসবাবপত্র তৈরির মতো নানা কাজে গাছ আমাদের নিয়মিত সাহায্য করেছে।
বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান অক্সিজেন সরবরাহ এবং ক্ষতিকারক কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে গাছ পরিবেশের অকৃত্রিম বন্ধুর ভূমিকা পালন করেছে। তবে পরিবেশ রক্ষায় এমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও দেশে গাছের সংখ্যা দিন দিন কমেছে। বাংলাদেশের ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৪৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশে বন আচ্ছাদনের পরিমাণ ছিল ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে প্রকৃত বনের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ থেকে ১১ শতাংশ, যা প্রয়োজনের তুলনায় মোটেও পর্যাপ্ত নয়।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বৃক্ষ আচ্ছাদন ২৫ শতাংশ এবং বনের পরিমাণ ১৬ শতাংশ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। বিগত বছরগুলোতে দেশে বৃক্ষের পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল। এক জরিপে দেখা গেছে, ২০০১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার হেক্টর বৃক্ষ আচ্ছাদন হারিয়েছে, যা ২০০০ সালের তুলনায় অনেক কম।
দেশের বিভিন্ন স্থানে নগরায়নের ধরণ অনুযায়ী গাছ কাটার হার ভিন্ন ছিল। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগ বন উজাড়ের তালিকায় শীর্ষে ছিল। সেখানে প্রায় ৯৪ শতাংশ বন উজাড়ের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। এর পরেই পর্যায়ক্রমে সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অবস্থান ছিল। অতিরিক্ত হারে গাছ কাটার ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে প্রায় ১৬০ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়েছে।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশে ৩ লক্ষ ২০ হাজার হেক্টর এলাকায় নতুন করে গাছ লাগানো হয়েছিল। উপকূলীয় জেলাগুলোতে ৮৯ হাজার ৮৫৩ হেক্টর এলাকায় ‘গ্রিন বেল্ট’ বা উপকূলীয় বনায়ন তৈরি করা হয়েছিল। বনায়নের এই বিশেষ ধরণের ফলে ১ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি প্রান্তিক মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
বর্তমানে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ গাছের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন। প্রতি বছর পরিবেশ দিবসে জাতীয়ভাবে গাছ লাগানোর কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এভাবে সবার মধ্যে গাছ লাগানোর আগ্রহ তৈরি হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
লেখক: শিক্ষার্থী (৯ম শ্রেণি), চুয়াডাঙ্গা।



