প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণীকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে ধর্ষণ, ২ বছর পর গ্রেপ্তার

ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক তরুণীকে (১৮) ধর্ষণের পর সেই ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন হাসিব চৌধুরী (২১) নামের এক যুবক। ঘটনার দীর্ঘ দুই বছর পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর লালবাগ থানার পলাশীর মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১০। গ্রেপ্তারকৃত হাসিব বরিশালের হিজলা উপজেলার মোল্লারহাট এলাকার লিটন চৌধুরীর ছেলে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ফেসবুকে পরিচয়ের মধ্য দিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের পর হাসিব ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীকে ফরিদপুরের একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করেন হাসিব। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের সময় গোপনে সেই ঘটনার ভিডিও ও ছবি নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন তিনি।
পরবর্তীতে সেই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগী তরুণীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন হাসিব। কিন্তু তরুণী সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারণকৃত ভিডিও এবং ছবিগুলো বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই নির্মম ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়ে অবশেষে গত ১১ মে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী তরুণী।
মামলা দায়েরের পর তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারে র্যাব-১০-এর সহযোগিতা চান। এর প্রেক্ষিতে র্যাবের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামির অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে পলাশীর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসিবকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিব স্বীকার করেছেন যে, মামলার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন, দুটি পরিচয়পত্র, চারটি ব্যাংকের এটিএম কার্ড এবং একটি ইলেকট্রিক ভেপ উদ্ধার করা হয়েছে।



