বিশ্ববাজারে টানা পতন, আরও কমলো স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তৃতীয় সেশনে স্বর্ণের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের বাজার এখন চাপের মুখে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের – প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) জিএমটি ১টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩১৯.৯৮ ডলারে নেমে আসে। এর আগে সোমবারও দাম কমে গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও ০.৪ শতাংশ কমে ৪,৩৪৪.৩০ ডলারে লেনদেন হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি নোটের ইল্ড সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোই স্বর্ণের ওপর প্রধান চাপ তৈরি করেছে। ইল্ড বাড়লে বন্ডে রিটার্ন বেশি হয়, ফলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে স্বর্ণ থেকে সরে গিয়ে বন্ডে ঝুঁকছেন। এতে স্বর্ণের চাহিদা কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর আহ্বানের পর ইরান ও ইসরায়েল সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রাখলেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বিশেষ করে লেবাননে হিজবুল্লাহ ইস্যুতে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বাজারকে অস্থির করে রেখেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শক্তিশালী মার্কিন অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে পারে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাক্সের পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং পরবর্তী ধাপে তা কমানোর সম্ভাবনা আরও পিছিয়ে যেতে পারে।
বাজারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনুযায়ী, সিটি ব্যাংক স্বর্ণের দামের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৪,৩০০ ডলার থেকে ৪,০০০ ডলারে নামিয়েছে। তাদের মতে, শক্তিশালী ফিজিক্যাল ডিমান্ড না থাকলে বর্তমান উচ্চ দাম টেকানো কঠিন হবে।
স্বর্ণ-সমর্থিত সবচেয়ে বড় এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, তাদের স্বর্ণ মজুদও কমে ৯২৯.৬২ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে, যা বাজারে চাহিদা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। স্পট সিলভার ও প্ল্যাটিনামের দাম কমেছে, তবে ব্যতিক্রম হিসেবে প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতি, সুদের হার এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—এই তিনটি কারণ মিলিয়ে স্বর্ণের বাজার বর্তমানে এক ধরনের চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।



