বিয়ে সংক্রান্ত মামলায় খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির ও তামিমা দম্পতি

বহুল আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলায় অবশেষে খালাস পেয়েছেন জাতীয় ক্রিকেটার নাসির হোসেন এবং তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাসের রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি ঘিরে কয়েক বছর ধরে দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছিল।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি, তাই আসামিদের খালাস দেওয়া হলো।
মামলার সূত্রে জানা যায়, তামিমা সুলতানার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন অভিযোগ করেন যে, তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রাকিব হোসেন মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাকিব হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিয়ে হয় এবং তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে পরবর্তীতে সেই বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হওয়ার আগেই নাসির হোসেনের সঙ্গে তামিমার বিয়ের অভিযোগ তোলা হয়।
তবে শুরু থেকেই নাসির ও তামিমা উভয়ই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। তাদের দাবি ছিল, পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে নাসির, তামিমা ও তামিমার মা সুমি আক্তারের নাম আসে। পরে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন, তবে তামিমার মাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২০ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং দীর্ঘ শুনানিতে মোট ১০ জন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর চলতি বছরের মার্চে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং তামিমা নিজেও সাফাই সাক্ষ্য দেন। সবশেষ ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং দণ্ড দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নাসির ও তামিমার আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে খালাসের আবেদন জানান।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, ফলে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মি উভয়কেই খালাস দেওয়া হয়।



