ভূমিকম্পে ধসে পড়তে পারে ঢাকার ৭২ হাজারো ভবন!

ফিলিপাইন ও আশপাশের অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশেও বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন সক্রিয় ভূ-ফাটলে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি জমে থাকায় ভবিষ্যতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলছেন, বাংলাদেশ এমন একটি ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চলের নিচে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। ওই এলাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তার গবেষণা অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় ঢাকার মাত্র ১ শতাংশ ভবন ধসে পড়লেও প্রায় ৬ হাজার ভবন ধ্বংস হতে পারে এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ হতাহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এর আগে জাইকা ও সিডিএমপির এক জরিপে বলা হয়েছিল, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে এবং এক লাখের বেশি ভবন বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বিল্ডিং কোড না মানা, দুর্বল নির্মাণব্যবস্থা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির ঘাটতি দেশের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ঢাকার মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, ভবনগুলোকে ভূমিকম্প সহনশীল করা গেলে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, নিয়মিত মহড়া, উদ্ধার প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। পাশাপাশি আধুনিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ভূমিকম্প বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা গেলে বড় ধরনের দুর্যোগের ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। তাদের মতে, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা না গেলেও আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতাই হতে পারে প্রাণহানি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।



