যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে জোর দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশের তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল প্রভাব থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুবকদের শক্তি ও মেধাকে ইতিবাচক পথে কাজে লাগাতে দেশব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। রাজধানীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে দূরে রাখতে হলে কেবল আইনশৃঙ্খলা দিয়ে নয়, বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, তরুণ বয়সে মানুষের শারীরিক ও মানসিক শক্তি সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সঠিকভাবে ব্যবহার না হলে তা নেতিবাচক পথে যেতে পারে। এ কারণেই খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাজধানীসহ সারা দেশে খেলার মাঠের সংকট থাকলেও সরকার নতুন করে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা এবং দেশব্যাপী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণমূলক বড় আয়োজনগুলো তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি শিক্ষা বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। দল-মত নির্বিশেষে এত বড় অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তরুণদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আগ্রহী করতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সায়েন্স ফেয়ার ও উদ্ভাবনী মেলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর ধরে সাংস্কৃতিক, বিতর্ক ও সৃজনশীল কার্যক্রম চালু রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
নৈতিক অবক্ষয় রোধে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে কিছু অমানবিক ও সহিংস আচরণ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, যা উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং তথ্য মন্ত্রণালয়কে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’ উদ্যোগের লক্ষ্য নিয়েও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সভায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।



