জাতীয় নির্বাচন ব'ন্ধে'র হুম'কি দিলেন নাহিদুল ইসলাম!

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী জাতীয় পার্টিকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজশাহী জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মো. নাহিদুল ইসলাম সাজু। তিনি দাবি করেন, যদি জাতীয় পার্টি রাজশাহীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তাহলে এই এলাকায় কোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে না।
এ ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠান চলাকালীন। এই সময় রাজশাহী-০৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আফজাল হোসেনের প্রতীক বরাদ্দকে কেন্দ্র করে নাহিদুল সাজু প্রতিবাদ জানান।
সাজু বলেন, “রাজশাহীতে যদি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো সহযোগী বা দোসরকে নির্বাচনী প্রতীক দেওয়া হয়, তাহলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করা হবে এবং এখানে কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না।”
উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার তাকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে নাহিদুল সাজু জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দল মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে, যা গভীর উদ্বেগজনক। এসব ব্যক্তি ও দল অতীতে গণতন্ত্র ধ্বংস, ভোটাধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ হলো:
আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল প্রার্থী ও দলের মনোনয়নপত্র এবং প্রতীক বরাদ্দ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
যেসব প্রার্থী অতীতে অবৈধ নির্বাচন, ভোট কারচুপি ও দমনপীড়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদের প্রার্থিতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি রাজশাহীতে নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তেজনাপূর্ণ করেছে এবং ভোটার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে।



