রুটি ও লবণ দিয়ে মোদিকে স্বাগত, স্লোভাকিয়ার ঐতিহ্যে উষ্ণ অভ্যর্থনা

ইউরোপ সফরের দ্বিতীয় ধাপে স্লোভাকিয়ায় পৌঁছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পেয়েছেন এক অনন্য ঐতিহ্যবাহী স্বাগত। ব্রাতিস্লাভায় তাকে রুটি ও লবণ দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়, যা স্লাভিক সংস্কৃতির প্রাচীন আতিথেয়তার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছালে মোদিকে রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক রীতিতে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
স্লোভাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী অতিথিকে রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়, যা দেশটির সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত একটি রীতি। এই রীতিতে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা তরুণীরা একটি বড় গোলাকার রুটি উপস্থাপন করেন, যা সাধারণত সূচিকর্ম করা কাপড় ‘রুশনিক’-এর ওপর রাখা থাকে। রুটির পাশে থাকে লবণের ছোট পাত্র।

অতিথি সেই রুটি থেকে একটি টুকরো ছিঁড়ে তাতে লবণ লাগিয়ে খান, যা আতিথেয়তা গ্রহণ এবং পারস্পরিক সম্মান ও সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্লাভিক সংস্কৃতিতে রুটিকে জীবনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, যা সুখ, সমৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তার ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদিকে লবণকে প্রাচীনকালে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে ধরা হতো, যা বন্ধুত্ব, বিশ্বাস ও সম্পর্কের স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই দুই উপাদানের সম্মিলনই অতিথির প্রতি গভীর সম্মান ও আন্তরিকতার প্রকাশ।
অনুষ্ঠানে রুটি–লবণের পাশাপাশি স্লোভাকিয়ার ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য পরিবেশন করা হয়, যা মোদি উপভোগ করেন। পরে তিনি বলেন, এই ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন একটি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি জানান, স্লোভাকিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী স্বাগত তাকে মুগ্ধ করেছে এবং এটি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন।
এছাড়া তিনি স্লোভাকিয়ার মিয়াভা অঞ্চলের লোকনৃত্য দল ‘কোপানিচিয়ারিক’-এর পরিবেশনার ভিডিওও শেয়ার করেন। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যই একটি জাতির পরিচয়কে টিকিয়ে রাখে।
১৯৯৩ সালে স্বাধীনতার পর স্লোভাকিয়ায় কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এটি প্রথম সফর। সফরকালে মোদি স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এবং প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল শিল্প, রেলওয়ে উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং নতুন সহযোগিতার দ্বার উন্মোচন করবে।




