রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ, আদালতপাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার আলোচিত মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। এই রায় ঘিরে ঢাকা মহানগর আদালত এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বহুল আলোচিত এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় উত্তেজনা ও সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রোববার (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। রায়কে ঘিরে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
এই মামলার দুই আসামি হলেন নিহত রামিসার প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। রায় ঘোষণার আগে সকালে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে তাদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে বাসা থেকে বের হলে আসামি সোহেল রানা তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন মেয়ের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই নৃশংস ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানা যায়।
তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মধ্যে, ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ১ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।
মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর আজ এ মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। আলোচিত এই মামলার রায়ের দিকে এখন দেশজুড়ে নজর রয়েছে, বিশেষ করে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে প্রত্যাশা ও অপেক্ষা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।



