লেবাননের দখলকৃত এলাকা ছাড়বে না ইসরায়েল, অবস্থান কঠোর করলেন নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনারা আপাতত কোনোভাবেই সরে যাবে না। একই সঙ্গে সিরিয়ার দখল করা অঞ্চলেও সেনা উপস্থিতি বজায় থাকবে বলে জানান তিনি। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লেবাননের সীমান্তবর্তী “নিরাপত্তা বেষ্টনী” এলাকায় সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, এই উপস্থিতি সাময়িক নয়, বরং যতদিন প্রয়োজন ততদিন তা বজায় থাকবে। এই অবস্থানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর বরাতে জানা যায়, নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন যে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে ইসরায়েল। একই সঙ্গে ইরানের প্রভাব ও সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার এই মন্তব্যকে ইরানের প্রতি সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যা পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দখলকৃত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীও আলাদা বক্তব্যে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় বর্তমানে যে অবস্থান রয়েছে, তা থেকে আপাতত পিছু হটার কোনো পরিকল্পনা নেই। এমনকি ভবিষ্যতে কোনো আন্তর্জাতিক চাপ এলেও এই অবস্থান পরিবর্তন করা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময় নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান শান্তি উদ্যোগকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চেষ্টার মাঝেই এই বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।



