সাবেক মন্ত্রী-এমপি, তোফায়েল আহমেদ ও পল্লবীর শিশুর মৃত্যুতে সংসদের শোক প্রস্তাব

বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বহু পরিচিত মুখের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে নেমে এসেছে শোকের আবহ। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং পল্লবীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার চার শিশুর স্মরণে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতেই তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো হয়।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনের শুরুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে সংসদ সদস্যদের সম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। প্রয়াতদের স্মরণে সংসদে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
শোক প্রস্তাবে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বহু পরিচিত ব্যক্তির নাম উঠে আসে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, এ কে এম রহমত উল্লাহ, দবিরুল ইসলাম, এ বি এম আনোয়ারুল হক, মোসলেম উদ্দিন এবং শফিক আহমেদ। এছাড়া দশম জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সদস্য আবদুল মতিন, বিএনপি সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা ও অধ্যাপক এম এ মান্নান, সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান শামসুল আবেদীন, জি এম ফজলুল হক, জাতীয় পার্টির সৈয়দ মো. কায়সার, আবু নূর মোহাম্মদ বাহাউল হক, গোলাম সারোয়ার মিলন এবং সিপিবির সাবেক সংসদ সদস্য মো. সামসুদ্দোহার নামও শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
শুধু রাজনীতিবিদই নন, দেশের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়েছে সংসদ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক দিলারা হাফিজ, জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ, কবি হেলাল হাফিজ, ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুন, প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী, লেখক ও গবেষক বদরুদ্দীন উমর, নজরুলসংগীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা আব্দুল কুদ্দুস, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মা বেগম জেবুন্নেছা, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, সংঘরাজ ড. জ্ঞানীশ্রী মহাস্থবির এবং সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী।
এদিন সংসদে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে পল্লবীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার চার শিশুর মর্মান্তিক ঘটনা। জাতীয় সংসদ তাদের মৃত্যুতেও গভীর শোক প্রকাশ করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং গণমাধ্যমের নীতিমালা অনুসরণ করে শিশুদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সংসদে তাঁদের স্মরণ করে শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার গুরুত্বও উঠে আসে।
সংসদে গৃহীত এই শোক প্রস্তাব শুধু কয়েকজন ব্যক্তির মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রতি জাতির সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। একই সঙ্গে নিষ্ঠুর সহিংসতার শিকার শিশুদের স্মরণ করে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে জাতীয় সংসদ।
জাতীয় সংসদের এই শোক প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রয়াতদের অবদান স্মরণ করা হয় এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। সংসদের পরিবেশজুড়ে এ সময় ছিল গভীর শ্রদ্ধা, নীরবতা ও শোকের আবহ।



