স্বর্ণপ্রেমীদের জন্য দুঃসংবাদ, আবারও বাড়ল সোনার দাম!

টানা চার দফা দাম কমার পর দেশের সোনার বাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম এক লাফে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেড়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে সোনা কিনতে আগ্রহীদের জন্য ব্যয় আরও বেড়ে গেল, আর বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস নতুন এই মূল্যতালিকা ঘোষণা করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, একই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনার মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা।
মাত্র দুই দিন আগেই অর্থাৎ ১১ জুন সোনার দাম কমিয়েছিল বাজুস। সে সময় ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকায় নামানো হয়েছিল। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচা সোনার সরবরাহ পরিস্থিতি দেশের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এসব কারণেই কখনো সোনার দাম বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মূল্য সমন্বয়ের হার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সোনার দাম ৭৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ বার দাম বেড়েছে এবং ৩৬ বার কমেছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস করা হয়েছিল। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, সোনার বাজারে অস্থিরতা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি বিয়ে, গহনা ক্রয় কিংবা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা কেনার পরিকল্পনা করা মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় কাঁচা সোনার দামের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে আবারও সোনার দামে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



