৩০ বছর পর মাথা তুলে ফোটে হিমালয়ের বিরল উদ্ভিদ ‘সিকিম সুন্দরী’

হিমালয়ের তুষারশৃঙ্গ আর সবুজ উপত্যকার অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝেই মিলিয়ে রাখা আছে এক বিরল ও অনন্য উদ্ভিদ, যা প্রতি ৩০ বছর অন্তর ফুল ফোটায়। এই বিশেষ উদ্ভিদটির নাম ‘সিকিম সুন্দরী’। এর ফুল দেখতে শঙ্কুর মতো, এবং এটি একটি স্বচ্ছ আবরণের মধ্যে ঢাকা থাকে, যা যেন কাচের টাওয়ার বা প্যাগোডার মতো মনে হয়।
‘সিকিম সুন্দরী’ প্রধানত হিমালয়ের উচ্চভূমিতে, প্রায় ৪০০০ থেকে ৫০০০ মিটার উচ্চতায় ফুটে। উদ্ভিদটির সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দিক হলো এর স্বচ্ছ পাতা বা ব্র্যাক্ট, যা ফুলকে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং ভিতরে একটি নিজস্ব উষ্ণ পরিবেশ তৈরি করে।
এই উদ্ভিদ ৩০ বছর নীরবে শক্তি সঞ্চয় করে রাখে। এক নির্দিষ্ট সময়ে এটি ফুল ফোটায় এবং কিছু মাসের মধ্যেই তার জীবনচক্র শেষ হয়ে যায়। স্থানীয় ভাষায় এটি ‘চুকা’ নামে পরিচিত। এর উজ্জ্বল হলুদ কাণ্ড এবং শক্তিশালী শিকড় তিব্বতি ওষুধ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।
সম্প্রতি মাহিন্দ্রা গ্রুপের চেয়ারম্যান আনন্দ মাহিন্দ্রা সোশ্যাল মিডিয়ায় সিকিম সুন্দরীর একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তিনি এটিকে প্রকৃতির অসাধারণ সৃষ্টি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এটি জীবনের ধৈর্যের এক অনন্য নিদর্শন, যা দীর্ঘ সময় নীরবে শক্তি সঞ্চয় করে পরে একবার মাথা তুলে ফুল ফোটায়।
যদিও অনেকের ধারণা এই ফুল ৪০০ বছর অন্তর ফুটে, প্রকৃত তথ্য অনুযায়ী এটি প্রতি বছর বা মাঝে মাঝে জুন থেকে জুলাই মাসে হিমালয়ে দেখা যায়।
বিরল এই ফুলের উপস্থিতি হিমালয়ের প্রকৃতিতে এক অনন্য আকর্ষণ হিসেবে পর্যটকদের টানে। একই সঙ্গে এটি পাহাড়ি অঞ্চলের কঠিন জলবায়ু ও তীব্র রশ্মি থেকে নিজের কোমল অংশগুলোকে রক্ষা করার এক প্রকৃতিগত কৌশলও প্রমাণ করে।



