৫ জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেড গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার!

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যকে সামনে রেখে পাঁচটি জেলায় নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বরিশাল ও লালমনিরহাটে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে দেশের আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের দেওয়া প্রস্তাব এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিসি সম্মেলনে উঠে আসা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জানা যায়, জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি উন্নয়ন প্রস্তাব পাওয়া যায়। এর মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপর সেগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা)-এর অধীনে দেশে আটটি সরকারি ইপিজেড রয়েছে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, আদমজী ও উত্তরা। নতুন করে আরও দুটি ইপিজেড যুক্ত হলে শিল্প ও রপ্তানি খাতে সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
গাজীপুরে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পরিকল্পিত শিল্পায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে বর্তমানে ছড়িয়ে থাকা শিল্পকারখানাগুলোকে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানান্তরের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমানো, কৃষিজমি রক্ষা এবং উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বরিশালে ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ঢাকামুখী শ্রমপ্রবাহ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পায়রা সমুদ্রবন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান থাকায় রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বরগুনায় প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে উপকূলীয় বাণিজ্যের সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। পায়রা বন্দরের কাছাকাছি অবস্থান এটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি মৎস্য, কৃষি ও সামুদ্রিক সম্পদভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগও বাড়বে।
পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে নৌ ও সড়ক যোগাযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে শিল্প ও বাণিজ্য প্রসারের পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর সঙ্গে সংযোগ থাকায় পণ্য পরিবহন সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
লালমনিরহাটে ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে নতুন শিল্পায়নের দ্বার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষিপণ্যের প্রাচুর্য, বুড়িমারী স্থলবন্দর এবং রেলওয়ে সংযোগ এই জেলাকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকদের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রতি মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো পরিকল্পিতভাবে শিল্পায়ন বিস্তার ঘটিয়ে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।
এদিকে সংসদীয় আলোচনায় সরকার জানিয়েছে, বিনিয়োগ পরিবেশ সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন নীতিগত সংস্কার নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রপ্তানি নীতি হালনাগাদ, আমদানি নীতি আধুনিকীকরণ এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত সংস্থাগুলোর কাঠামোগত পরিবর্তন অন্যতম।
পাঁচটি জেলায় নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের এই উদ্যোগকে দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: বাসস।



