৫০ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা, তারিখ জানাল সংস্থা

প্রায় অর্ধশতাব্দী পর আবার মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ৬ মার্চ রকেট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে শুরু হবে আর্টেমিস-২ মিশন। তবে প্রস্তুতির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে এই তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে নাসা।
আর্টেমিস-২ মিশনে চন্দ্রযানটি চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে না; বরং এটি চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে এবং তথ্য সংগ্রহ করবে। ফলে অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা চাঁদকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন। মিশনের আগে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে নাসা ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ নামে বিশালাকৃতির রকেটে পূর্ণ উৎক্ষেপণ মহড়া চালিয়েছে, যা উৎক্ষেপণের বাস্তব পরিস্থিতি অনুকরণ করে। প্রথম কাউন্টডাউন মহড়ায় হাইড্রোজেন লিক সমস্যা থাকলেও দ্বিতীয় পরীক্ষায় বড় কোনো জ্বালানি লিক দেখা যায়নি। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই পরীক্ষাকে চাঁদের পরিবেশে আমেরিকার প্রত্যাবর্তনের পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
উৎক্ষেপণ সফল হলে শুরু হবে প্রায় ১০ দিনের মহাকাশযাত্রা। নভোচারীরা প্রথমে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবেন, এরপর চাঁদের চারপাশে ফিগার-এইট আকৃতির পথে উড়াল দেবেন। এই মিশনে রকেটে ৭ লাখ গ্যালনের বেশি তরল জ্বালানি ভরা হয়েছে। উৎক্ষেপণপ্যাডে ক্লোজআউট দল মহড়া পরিচালনা করেছে এবং ‘টার্মিনাল কাউন্ট’ পরীক্ষা দু’বার সম্পন্ন হয়েছে, যা নভোচারীরা কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কন্ট্রোল সেন্টার থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন।
মিশনে অংশ নিচ্ছেন চারজন নভোচারী: রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। এই যাত্রার মাধ্যমে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর প্রথমবারের মতো মানুষ চাঁদের কাছে যাবে এবং মানব ইতিহাসে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণের রেকর্ড গড়তে পারে। এটি হবে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেট ও ওরিয়ন মহাকাশযানের প্রথম মানববাহী উড্ডয়ন।
নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস-২ মিশনে চাঁদে অবতরণের পরিকল্পনা নেই, কারণ ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের পৃষ্ঠে নামার জন্য তৈরি নয়। নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী পাশ অতিক্রম করবেন, যেখানে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের দূরত্বের রেকর্ডও ভাঙতে পারেন। পরবর্তী ধাপে রয়েছে আর্টেমিস-৩, যা ১৯৭২ সালের পর প্রথম মানববাহী চাঁদে অবতরণ মিশন হবে। নাসার বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি ২০২৭ সালের মাঝামাঝি বা ২০২৮ সাল পর্যন্ত হতে পারে।
চাঁদে মানব প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা এমন সময়ে জোরালো হচ্ছে যখন চীনও ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম মানববাহী চাঁদ মিশনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নাসার আশা, চাঁদে মানব উপস্থিতি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযানের প্রস্তুতি ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে। এই মিশন শুধুমাত্র চাঁদ পর্যবেক্ষণের সুযোগ নয়, বরং মানবজাতির মহাকাশ অন্বেষণকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতীক হিসেবেও গণ্য হচ্ছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড



